নন্দন

ইসলামে সম্পদের বন্টন ও ভোগ-ব্যবহারের নিয়ম-নীতিঃ সংক্ষিপ্ত আলোচনা

প্রথম কিস্তি (লেখাটিকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশের ইচ্ছা রাখছিসে হিসেবে ধারাবাহিক প্রবন্ধের প্রথম কিস্তি দেয়া হলো)

প্রারম্ভিক আলোচনা:

আসমান ও জমীনে যা কিছু আছে সব আল্লাহরই, আল্লাহর নিকটই সবকিছু প্রত্যাবর্তিত হয়। (সূরা আল-ইমরানঃ ১০৯)

আসমান-জমীনে অর্থাৎ সমগ্র বিশ্বলোক এবং এই দুয়ের মাঝে যা কিছু আছে, তার সব কিছুরই একচ্ছত্র ও নিরংকুশ মালিক একমাত্র বিশ্বস্রষ্টা আল্লাহ্। (বিস্তারিত…)

Healthy Mediterranean Herb Potato Salad Recipe • NONDON

Mediterranean herb potato salad has a super spice duo of oregano & thyme flavor this light vinaigrette, Be sure to toss potatoes in dressing.

উত্‍স: Healthy Mediterranean Herb Potato Salad Recipe • NONDON

Realme X3 Pro Features and Specifications Leaked • NONDON

Realme will soon launch two new phones, Realme X3 and Realme X3 Super Zoom. Ahead of the official launch, Realme smartphone have emerged.

উত্‍স: Realme X3 Pro Features and Specifications Leaked • NONDON

NondonNet

Nondon Net – Google+

উত্‍স: NondonNet

Taste And Craze | Better Way to Learn…

TasteandCraze.com represents global trends with a whopping number of informational Articles on various niches like Lifestyle, Fitness, Health, DIY and…

উত্‍স: Taste And Craze | Better Way to Learn…

Searching Marketing

If you do not truly feel totally comfy, search. You have to possibly make a decision to not go with…

উত্‍স: Searching Marketing

Easy shrimp boil foil packets baked with summer veggies

Easy, tasty shrimp boil foil packs baked or grilled with summer veggies, homemade seasoning, fresh lemon, and brown butter sauce. Make shrimp boil at home!

উত্‍স: Easy shrimp boil foil packets baked with summer veggies

Top 5 Most Popular Asian Actresses we like

The beauty of Asian women is always great and we can easily see why she is. We are listing here top 5 most popular Asian actress we always like.

উত্‍স: Top 5 Most Popular Asian Actresses we like

Top 10 Bollywood actress doing grand progress in recent time

When you think of India, what is the first thing that goes to your mind? Perhaps such things as “the cow is sacred”, “people are poor” or “everyone dances smoothly”. The good news is – they are all just silly conservative (or at least to some extent exaggerated lies). It should have been a clean …

উত্‍স: Top 10 Bollywood actress doing grand progress in recent time

Pumpkin Pecan Cobbler: The ultimate fall dessert with cake

Pumpkin Pecan Cobbler is the ultimate fall dessert with cake on the top and hot caramel sauce on the bottom! Really Awesome! If you don’t like chocolate as much as you like pumpkin, then we are close to something that will blow your mind. If you are like my husband and thinks any dessert that …

উত্‍স: Pumpkin Pecan Cobbler: The ultimate fall dessert with cake

ব্র্যাক: বিশ্বব্যাপী অসংখ্য সঙ্গী

শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, ক্ষুদ্রঋণসহ নানা স্তরে সহযোগিতা করে মানুষকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে ব্র্যাক। তাদের সাফল্যে তাক লাগিয়ে দিয়েছে পৃথিবীকে। ব্র্যাক সম্পর্কে তাঁর বিস্ময়ের কথা বলছেন বিল গেটসের পিতা এবং বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের অন্যতম সভাপতি উইলিয়াম এইচ গেটস সিনিয়র।

উইলিয়াম এইচ গেটস সিনিয়র, যুক্তরাষ্ট্র

গত শতকের সত্তরের দশকের শুরুতে বাংলাদেশ ভয়াবহ দুঃখদুর্দশার মধ্যে নিপতিত হয়। বহু মূল্য দিয়ে দেশটি স্বাধীনতা অর্জন করে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে লাখ লাখ মানুষ নিহত হয়, সম্পদের বিনাশ হয়, বহু সেতু বিধ্বস্ত হয়। দারিদ্র্য ও ব্যাধির ব্যাপক বিস্তার ঘটে। যুদ্ধশেষে সহায়সম্বলহীন নিরুপায় শরণার্থীরা আবার তাদের জীবনযাত্রা শুরু করার জন্য ঘরে ফিরে আসতে থাকে। ওই সময়ে পশ্চিমা বিশ্বের অনেক বিশেষজ্ঞ এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেছিলেন।

এর আগে ষাটের দশকের শেষভাগে ফজলে হাসান আবেদ ইউরোপে সুখস্বাচ্ছন্দ্যে ভালোই ছিলেন। যুক্তরাজ্যে লেখাপড়া শেষ করে দেশে ফিরে তিনি একটি বৃহৎ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছিলেন। তাঁর সামনে ছিল সম্ভাবনায় ভরপুর জীবন। কিন্তু দেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে ইউরোপে চলে যান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন। স্বাধীনতা লাভের পর স্বদেশে ফিরে এসে ‘বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমি ভেবেছিলাম কয়েকটা বছর দেশের পুনর্গঠনে কাজ করব।’

সেই ‘কয়েকটি বছর’ রূপান্তরিত হয়েছে ‘কয়েক দশকে’। সেদিনের সেই ছোট প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশ ইতিহাসের পাতায় সমান্তরাল অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে।

এ কথা সত্য, বাংলাদেশ এখনো দারিদ্র্য ও রোগশোকের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। কিন্তু যেকোনো মানদণ্ডে এ দেশের জনগণের জীবনমানের উন্নতিও হয়েছে। গত ১০ বছরে দেশটি ৬ শতাংশের বেশি হারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও ২০ শতাংশ কমেছে। বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। সাক্ষরতার হারও হয়েছে দ্বিগুণ। শিশুমৃত্যুর হার অর্ধেকে নেমে এসেছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে ১৩ বছর।

এসব উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে ফজলে হাসান আবেদের গড়া সংগঠন ব্র্যাকের অবদান রয়েছে। ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছে ব্র্যাক। ৩৬ লাখ ঋণগ্রহীতা নিয়ে ব্র্যাক এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্ষুদ্রঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠান। ব্র্যাকের ৩৪ হাজার উপ-আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় ১০ লাখের বেশি শিশুকে শিক্ষা দিচ্ছে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি শিক্ষা কর্মসূচি। ৯০টি সাধারণ ক্লিনিক এবং দুই হাজার প্রসবপূর্ব সেবাদান ক্লিনিকের সাহায্যে ব্র্যাক স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে। ব্র্যাকের এক লাখ ৩০ হাজার স্বাস্থ্যসেবিকা বাংলাদেশের লাখ লাখ গৃহস্থালিতে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রদান করছে। ব্র্যাকের সদস্যরা সংগঠন থেকে ঋণ ও সম্পদ নিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করছেন। ব্যক্তি পর্যায়ে মৃৎশিল্প ও কারুশিল্পের কাজ করছেন, বৃহত্তর পর্যায়ে মাছ চাষ, চা-বাগান, দুগ্ধখামার, পোলট্রিফিড কারখানা গড়ে তুলছেন কিংবা ইন্টারনেট সংযোগ সেবাদানের ব্যবসায় নিয়োজিত হচ্ছেন।

ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ প্রতিষ্ঠা করেছে। বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি দ্বিতীয় ও দক্ষিণ এশিয়ায় পঞ্চম। আমরা জানি, উন্নয়নশীল বিশ্বের শিশুদের জন্য ডায়রিয়া একটি মারাত্মক প্রাণঘাতী রোগ। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ কর্তৃক পানিশূন্যতা-পরিপূরক স্যালাইন উদ্ভাবনের কারণে অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে। ব্র্যাক এই উদ্ভাবনাকে কাজে লাগিয়েছে এবং তার দুই হাজার কর্মী সারা দেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মায়েদের শিখিয়েছে কীভাবে অতি সহজে লবণ, চিনি ও পানি দিয়ে স্যালাইন তৈরি করতে হয়। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ব্র্যাকের কর্মীরা দেশের এক কোটি ৩০ লাখ মাকে স্যালাইন তৈরি এবং শিশুদের তা খাওয়ানোর প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

খাওয়ার স্যালাইন ব্যবহারের হিসাবে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ সফল দেশগুলোর অন্যতম। এর ফলে শিশুমৃত্যুর হার কমেছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে এক কোটি ৩০ লাখ মাকে হাতেকলমে জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যশিক্ষা দেওয়ার এই ঘটনাটি নিঃসন্দেহে ছিল বিস্ময়কর! কোনো কিছুর ভিত্তি গড়ে তুলে তাকে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে দেওয়া বিরাট একটি চ্যালেঞ্জের বিষয়। ব্র্যাক সেই কাজটি সফলভাবে করেছে।

কিন্তু শুধু ব্যাপকতা দিয়ে ব্র্যাকের সাফল্যকে ব্যাখ্যা করা যাবে না। এর পেছনে আরও অনেক কিছু কাজ করেছে। আমার ছেলে বিল গেটস—যে সব সময়ই মানুষের জীবন রক্ষার জন্য আরও উপায় খুঁজে চলেছে—কয়েক বছর আগে মানবসেবা-বিষয়ক এক আলাপচারিতায় বলেছিল, ‘তুমি যদি বিপুল কোনো সম্ভাবনার অনুসন্ধান করতে চাও, তাহলে সেটি অবশ্যই একটি অনন্য পদ্ধতি বা অনন্য ভিত্তিতে হতে হবে।’

যে অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি ব্র্যাকের সব কর্মকাণ্ডে অনুসৃত হচ্ছে এবং যে বিষয়টি কোটি কোটি মানুষের দৃষ্টিসীমার অগোচরে থেকে গেছে, সেটি হচ্ছে নারীর অধিকার। এটিই ব্র্যাকের কর্মকাণ্ডকে বিপুলভাবে প্রভাবিত করেছে। এর সূচনা মেয়েদের শিক্ষা কর্মসূচি দিয়ে। ব্র্যাক উপলব্ধি করেছে, মেয়েদের বিদ্যাশিক্ষা কখনো বিফলে যায় না। একটি মেয়ে যদি শিক্ষিত হয়, তাহলে তার নিজের শিশুটিরও শিক্ষিত হওয়ার পথ খুলে যায়। এরপর বংশানুক্রমে ব্যতিক্রমহীনভাবে এটা চলতে থাকে।

একটি শিক্ষিত মেয়ে বাল্যবিবাহ এড়াতে পারে, তার সন্তানসংখ্যা কম হয় এবং সেই সন্তানেরা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়। একটি মেয়ে শিক্ষিত হলে তার জানা ও বোঝার পরিধি বেড়ে যায়। সে তার নিজের ও সন্তানদের জন্য পুষ্টি ও স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যগুলো কাজে লাগিয়ে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারে।

নারী অধিকার ও মেয়েদের শিক্ষাদানের কর্মকৌশল অবশ্যই অনন্য। কিন্তু একই সঙ্গে এটা বিপজ্জনকও বটে। কেননা, এমন কিছু কিছু মানুষ থাকে যারা মেয়েদের স্কুলের বাইরে রাখতে চায়, দূরে রাখতে চায় কর্মক্ষেত্র থেকেও। এরা অতীতে ব্র্যাকের ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির ওপর, যে কর্মসূচির ঋণগ্রহীতাদের বেশির ভাগই নারী, হামলা চালিয়েছে। তারা ব্র্যাকের স্কুল আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে, যার ৭০ ভাগ শিক্ষার্থীই মেয়ে।

এ প্রসঙ্গে ফজলে হাসান আবেদ বলেছেন, ‘তাদের আক্রমণ আমাদের এই বিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে যে আমরা সঠিক পথেই আছি।’ অন্য আরেকটি ভাষণে আবেদ বলেছিলেন, ‘শুধু খাদ্য আর কাজ দিয়েই ক্ষুধা ও দারিদ্র্যকে পরাস্ত করা যাবে না। যে পদ্ধতি ও চিন্তাধারা এই মানসিকতাকে টিকিয়ে রেখেছে, তাকেও দূর করতে হবে। দারিদ্র্যের অবসান ঘটানো প্রকৃতপক্ষে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মতোই একটি কাজ।’

সাময়িক ব্যবস্থা নয়, পরিপূর্ণ নিরাময়ই সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মর্মকথা। ব্র্যাকের ক্ষেত্রে এটা শুধু মেয়েদের লেখাপড়া শেখানোর ব্যাপার নয়, বরং নিজেদের অধিকার আদায়ে নারীদের সচেতন এবং শক্তিমতী করে তোলাই মূল কথা। কয়েক বছর আগে ব্র্যাকের সংগঠনভুক্ত নারী কৃষিশ্রমিকেরা ঋণ নিয়ে তাদের মালিকের জমিতে নলকূপ খনন করে দিয়েছিলেন। শর্ত ছিল এই যে মালিক উৎপন্ন ফসলের ২৫ শতাংশ তাদের দিয়ে দেবেন। কিন্তু তিনি যখন শর্ত ভঙ্গ করে ওই নারীশ্রমিকদের মাত্র ১০ শতাংশ ফসল দেওয়ার চেষ্টা করলেন, তখন তাঁরা বললেন, ‘আমরা নারী বলে আপনি আমাদের ঠকাতে চাইছেন।’ এরপর তাঁরা সবাই মিলে থানা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে চুক্তিমোতাবেক মালিককে ফসল দিতে বাধ্য করলেন।

অনেক বছর আগে বাংলাদেশের এক প্রতিবেদক একটি মার্কিন সংবাদপত্রকে বলেছিলেন, ‘আমি ব্র্যাকের কর্ম-এলাকার একটি গ্রামে দেশের একজন মন্ত্রীকে সফর করতে দেখেছিলাম। সেদিন আমি যা দেখেছিলাম, তাতে আশ্চর্য না হয়ে উপায় ছিল না। এক বৃদ্ধা উঠে দাঁড়িয়ে মন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলেন, সরকার কেন তাদের জন্য পানি সরবরাহ করছে না, স্কুল তৈরি করছে না এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে না। আগে একজন দরিদ্র ও অশিক্ষিত নারীর পক্ষে সরকারের কোনো হর্তাকর্তার সঙ্গে এভাবে কথা বলাটা অসম্ভব হঠকারিতা ছাড়া আর কিছু ছিল না। ব্র্যাকই প্রকৃতপক্ষে এই বৃদ্ধাকে এভাবে সাহস সঞ্চয়ে অনুপ্রাণিত করেছে।’

ব্র্যাক যখন তার নারীকর্মীদের কাজের সুবিধা এবং সময় বাঁচানোর জন্য সাইকেল চালানো শিখিয়েছিল, সমাজের কিছু ধর্মীয় ব্যক্তি তখন বলেছিলেন, ‘মেয়েরা সাইকেল চালাতে পারবে না।’ আবেদ তখন তাঁদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ‘আমাকে বলুন, কোরআন শরিফ-এ কোথায় মেয়েদের সাইকেল চালাতে নিষেধ করা হয়েছে।’ ব্র্যাকের নারীকর্মীরা আজও বাইসাইকেলে চড়ে কর্মসূচির কাজ চালাচ্ছেন। বস্তুত একটি বিষয় আমাদের সবার কাছে স্পষ্ট হওয়া দরকার, সেটি হলো যে ঐতিহ্য বা ধর্মবিশ্বাসই আপনার থাকুক না কেন, যে বিবেচনা ও মূল্যবোধেরই আপনি অধিকারী হোন না কেন, আপনাকে অবশ্যই নারীর শিক্ষা ও জীবিকা অর্জনের পথে বাধা দেওয়া বা কোনো অন্তরায় সৃষ্টি করাকে অনৈতিক কাজ বলে গণ্য করতে হবে। কথাটি আমি বললাম আমার প্রবল এক ব্যক্তিগত প্রত্যয় থেকে।

কয়েক বছর আগে আমি যখন একটি ব্র্যাক স্কুল দেখতে গিয়েছিলাম, তখন আমার এই প্রত্যয় আরও দৃঢ় হয়েছিল। সেটি ছিল অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। একটি রিকশায় চড়ে আমি স্কুলের দিকে রওনা হলাম। রিকশাটি ভালোই চলছিল। একটি টিলার কাছে আসার পর চালক নেমে গেল এবং রিকশা ঠেলতে শুরু করল। আমার শারীরিক ওজন ইতিমধ্যেই রিকশাটিকে তার ঠেলে তোলার ক্ষমতাকে হার মানিয়েছিল। আমরা যখন স্কুলের কাছাকাছি পৌঁছে দেখি, জামাজুতো ছাড়া একদল কিশোর কাদামাটির মধ্যে ফুটবল খেলছে। খেলোয়াড়দের একজন তো একেবারেই দিগম্বর। খেলার এই আয়োজনটি ছিল রঙ্গকৌতুকে ভরা। কিন্তু আমাকে কেমন বিষণ্নতায় পেয়ে বসল। ওদের আনন্দের সঙ্গে আমি একাত্ম হতে পারছিলাম না। আমি স্কুলের দিকে এগোতে এগোতে হঠাৎ করেই একটি সেতুর কাছে চলে এলাম। মাত্র কয়েক ইঞ্চি চওড়া একটি কাঠের গুঁড়ি। পাতা হয়েছে ১৫ ফুটের মতো দূরত্ব পার করে দেওয়ার জন্য। বাচ্চারা পাখির মতো উড়ে উড়ে ওই পথটুকু পার হয়ে যাচ্ছিল। আমি খুবই সাবধানে সেতুর ওপর পা রাখলাম। রিকশার তুলনায় আমি খুবই ওজনদার ছিলাম। ভাবলাম, সেতুর বেলায় নিশ্চয় তেমনটা হব না।

সেতু পেরিয়ে আমি বাংলাদেশজুড়ে ব্র্যাক পরিচালিত ৩৪ হাজার স্কুলের একটিতে এসে পৌঁছালাম। স্কুলে আট থেকে ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই মেয়ে। আমি তাদের প্রত্যেককে একে একে জিজ্ঞেস করলাম, ‘বড় হয়ে তোমরা কী হতে চাও?’

কেউ বলল, ‘আমি কৃষক হতে চাই।’

কেউ বলল, ‘আমি শিক্ষক হব।’

একটি মেয়ে উঠে দাঁড়াল। সে বলল, ‘আমি ডাক্তার হতে যাচ্ছি।’

সে কিন্তু এই কথা বলল না যে, ‘আমি ডাক্তার হতে চাই।’ বরং বলল, ‘আমি ডাক্তার হতে যাচ্ছি।’

ওই মুহূর্তটির কথা আমার পক্ষে কখনো ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। ছোট্ট একটি মেয়ে। তার বাবা-মা দরিদ্র ও শিক্ষাহীন। টিনের ছাদওয়ালা একটি ঘরের মলিন মেঝেতে মাদুরের ওপর বসে গভীর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আমাকে বলল, ‘আমি ডাক্তার হতে যাচ্ছি।’

আজ থেকে অনেক বছর আগে ফজলে হাসান আবেদ যখন ব্র্যাকের কর্মকাণ্ডের সূচনা করে সবার সহায়তা চাইছিলেন, তখন তিনি অন্তরে অনুপ্রেরণা লাভের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি লেখা আপন মনে আবৃত্তি করতেন। কবিতার প্রথম চরণ ছিল এ রকম, ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।’ ব্র্যাকের সূচনালগ্নে তিনি ছিলেন একাকী। আজ বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষ তাঁর সঙ্গী হয়েছে।

(ইংরেজি থেকে অনূদিত)

উইলিয়াম এইচ গেটস সিনিয়র, যুক্তরাষ্ট্র

কৃতজ্ঞতা: লেখাটি দৈনিক প্রথমআলো অনলাইন থেকে নেয়া হয়েছে।

মিথ্যাবাদী মা : একটি আবেগঘন লেখা

এতটা দিন পেরিয়ে আজো মায়ের জন্য কাঁদি

কারণ আমার মা যে ছিল ভীষণ মিথ্যাবাদী।

বাবা যেদিন মারা গেল আমরা হলাম একা…

সেদিন থেকেই বাঁক নিয়েছে মায়ের কপাল রেখা। (বিস্তারিত…)

একাত্তরে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বয়স কত ছিল? | নাগরিকব্লগ

সাঈদীর ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা নির্বাচনী কাগজপত্র থেকে জানা যায় তাঁর জন্ম তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৪০, যার মানে দাঁড়াচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল ৩১ বছরেরও বেশি।

একাত্তরে দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বয়স কত ছিল? | নাগরিকব্লগ.

ইমন রেজা's avatarআমার আমি

গত ক’দিনে চারপাশে যা ঘটছে, যা ঘটে চলেছে আমাদের জাতীয় জীবনে, তার বর্ননা করা নিতান্তই বাতুলতা হবে। আমরা সবাই পত্রিকা পড়ছি, চ্যানেলের নিউজ কাভারেজ দেখছি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কী বলছেন পত্রপত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া মারফত আমরা সবই দেখছি জানছি। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি বোঝেন, মানুষ এখন নিজের কাছে নিজেই যে কেনো ব্যপারে ব্যাখ্যা করতে পারেন। ভালোভাবে উপলব্ধি করার মতো নূন্যতম সচেতনতা এখন মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে।

View original post 873 more words

এই হলুদ সাংবাদিকতার যুগে একটি অসাধারন ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ

এই হলুদ সাংবাদিকতার যুগে একটি অসাধারন ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ.

via এই হলুদ সাংবাদিকতার যুগে একটি অসাধারন ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ.

আনিসুল হক-এর গল্প: যাওয়া

এপ্রিল ১৭, ২০১১ইং থেকে পাঠকসংখ্যা

  • 14,511 জন

নন্দন-এ নিয়মিত লিখছেন যারা